ফেনী শহরের ব্যস্ততম সড়ক ট্রাংক রোড ও শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়কে পার্কিং সংকট দীর্ঘ দিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্দিষ্ট পার্কিং এরিয়া না থাকায় প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ চালক, মটর সাইকেল মালিক ও ব্যবসায়ীরা। রাস্তায় পাশে গাড়ি পার্কিং করায় নিয়মিত জরিমানা গুনতে হচ্ছে গাড়ির চালকদের। দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনে প্রতিনিধির কাছে প্রশ্ন উঠেছে- বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এমন পদক্ষেপ কতটা যৌক্তিক?
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রাংক রোড, শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোড, হাসপাতাল রোড, সালাউদ্দিন রোড ও মিজান রোডে প্রতিদিন শত শত ছোট-বড় যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থার অভাবে অনেক চালক বাধ্য হয়ে রাস্তার পাশে গাড়ি রাখেন। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশের জরিমানার মুখেও পড়তে হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী চালক জানান, শহরে কোথাও ঠিকমতো পার্কিংয়ের জায়গা নেই। কাজের প্রয়োজনে গাড়ি রাখতে হয়, আর ভ্রাম্যমান আদাল এসে পৌরসভার গাড়ি নিয়ে এসে মোটরসাইকেল গুলো নিয়ে যায়, পরে জরিমানা করা হয়।
ভোগান্তিরা বলেন আগে জায়গা ঠিক করে দিক, আমরা সেখানে গাড়ি রাখি। তখন আইন অমান্য করলে জরিমানা করুক।
এদিকে ব্যবসায়ীরাও একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের মতে, পার্কিং সুবিধা না নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ক্রেতারা অনেক সময় দোকানে আসতে নিরুৎসাহিত হন, যা ব্যবসার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সচেতন মহল মনে করছে, সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তারা ট্রাংক রোড বা শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার রোডের আশপাশে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন নির্ধারণ করা হোক, স্কুল বা খালি জায়গা ব্যবহার বা স্বল্পমূল্যের পেইড পার্কিং চালুর দাবি জানিয়েছেন।
তবে ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যানজট নিরসন ও সড়ক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
নিয়ম অনুযায়ী বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক ভবনেই তা মানা হয়নি। ফলে ভবনের সামনে কিংবা সড়কের ওপরই গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। এতে করে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
সাবেক জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম-এর সময় এ সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও, স্থায়ী সমাধান এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান বা জরিমানা নয়, ভবন নির্মাণের সময় থেকেই পার্কিং নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক বাণিজ্যিক ভবনের মালিক নিয়ম অমান্য করে ভবনের নিচতলাও দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়েছেন, যা পার্কিং সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও নিয়মিত মনিটরিং জরুরি।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফেনী শহরের যানজট নিরসনে- বাণিজ্যিক ভবনে বাধ্যতামূলক পার্কিং নিশ্চিত করা
অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
বহুতল পার্কিং (মাল্টি-লেভেল) ব্যবস্থা চালু -এসব পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ফেনী শহরের যানজট সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
নাগরিক প্রত্যাশা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা ছাড়া জরিমানা নয় বরং পরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থাই হতে পারে ফেনী শহরের যানজট সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।