এবি পার্টির সমর্থনে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতি নয়, স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্ত সেবার অঙ্গীকার নজরুল ইসলাম সবুজের

নির্ভীক ডেক্স
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
 ছবি: সংগ্রহীত
ছবি: সংগ্রহীত

এবি পার্টির সমর্থনে নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি দুর্নীতি ও স্বজন প্রীতি নয়, স্বচ্ছতা ও হয়রানিমুক্ত সেবার অঙ্গীকারে নজরুল ইসলাম সবুজের

মানবসেবার পরিচিতি নিয়ে এবার জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন রোটারীয়ান মো. নজরুল ইসলাম (সবুজ)
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেনী সদর উপজেলার ১২ নম্বর ফাজিলপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন তিনি। ফেনী জেলা আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সদস্য ও ফেনী সদর উপজেলা এবি পার্টির যুগ্ম সদস্য সচিব সবুজ জানিয়েছেন, দলটির সমর্থনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

মানবসেবার অভিজ্ঞতা কি ভোটের মাঠে শক্তি হবে? ফাজিলপুরের সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণে এখন এমন প্রশ্নই ঘুরছে স্থানীয় পর্যায়ে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করতে চান সবুজ।

তাঁর বক্তব্য, ফাজিলপুর তাঁর শৈশব, কৈশোর ও শিক্ষাজীবনের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা। পেশাগত কারণে বর্তমানে ফেনী শহরে অবস্থান করলেও নিজ ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রয়েছে। ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে সম্পৃক্ত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রক্তদান থেকে বন্যার্তদের সহায়তা—মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা

নজরুল ইসলাম সবুজের ভাষ্য অনুযায়ী, রোটারি, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন, মাসুদা ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল, যুব মাতৃসেবক, আত্মার বন্ধন ও আমরা ফেনীবাসীসহ বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে তিনি নানা সেবামূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

স্বেচ্ছায় রক্তদান, শীতার্তদের শীতবস্ত্র বিতরণ, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বই ও শিক্ষা উপকরণ প্রদান, দরিদ্র পরিবারের ঘর নির্মাণে সহযোগিতা, মসজিদ-মাদ্রাসায় সহায়তা, বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল স্থাপন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন তিনি।

করোনাকালে অক্সিজেন ও খাদ্য সহায়তা এবং বন্যার সময় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণের উদ্যোগও তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের অংশ বলে জানান সবুজ।

তাঁর দাবি, এসব কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি হতে পারলে আরও বৃহৎ পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি।

‘জনগণের শাসক নয়, সেবক হতে চাই’

চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে নজরুল ইসলাম সবুজ
 “আমি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হতে চাই না। পুরো ইউনিয়নবাসীর আস্থা অর্জন করে মানুষের সেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। মানুষের সমস্যা শুনব, সমাধানের চেষ্টা করব এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ নেব।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হলে উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেবেন।

মাদকমুক্ত সমাজ, দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন—অঙ্গীকারে নজর

ফাজিলপুর ইউনিয়নকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সম্ভাব্য এই চেয়ারম্যান প্রার্থী। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে নাগরিক সেবা সহজ করা, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা, ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালতকে কার্যকর করা এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবায় ব্যক্তিগত প্রভাব ও হয়রানি কমানো।

সবুজের ভাষ্য, “ইউনিয়নের মানুষ যেন নিজেদের সমস্যা নিয়ে নির্ভয়ে জনপ্রতিনিধির কাছে আসতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে চাই। উন্নয়ন হবে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী, আর সরকারি সুবিধা বণ্টনে থাকবে স্বচ্ছতা।

তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তাঁর পরিকল্পনা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে নির্বাচনী অঙ্গীকারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড ও জবাবদিহির ওপর।

ফাজিলপুরের ভোটারদের রায়ে নির্ধারিত হবে ভবিষ্যৎ

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে ফাজিলপুরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম সবুজের প্রার্থিতার ঘোষণা নির্বাচনী আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক পরিচয় ও উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মানবসেবার পরিচিতি কি তাঁকে চেয়ারম্যানের চেয়ারে পৌঁছে দেবে, নাকি ভোটের মাঠে সামনে আসবে নতুন কোনো সমীকরণ? শেষ পর্যন্ত ফাজিলপুরের ভোটারদের সিদ্ধান্তই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত