কয়রার নাকশা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে লাল শাড়ি পরে বরযাত্রার সঙ্গে রওনা দেন মার্জিয়া আক্তার মিতু। আবার সেই বাড়িতে মিতু ফিরল সাদা কাপড়ে মোড়ানো লাশ হয়ে। শুধু মিতু নন, তার সঙ্গে ছিল তার ছোট বোন লামিয়া (১১) এবং মিতুর দাদি রাশিদা বেগম (৭৫)। তাদের লাশ দেখেই স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে পুরো গ্রাম। সে এক হৃদয়বিদায়ক ঘটনা। বাড়ির চারপাশে শুধু কান্নার আওয়াজ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকাল ৪টার দিকে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপাল উপজেলার বোলাই ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, বুধবার রাতে উপজেলার নাকশা গ্রামের ছালাম মোড়লের মেয়ে মিতুর বিয়ে হয় রামপাল এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে। বৃহস্পতিবার সকালে নববধূ মিতু তার ছোট বোন লামিয়া ও বৃদ্ধা দাদি রাশিদা বেগমকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে বরযাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি রামপাল বোলাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে মোংলা থেকে আসা নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসে থাকা নববধূ, বর ও তাদের স্বজনসহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়।