প্রকাশ :: ... | ... | ...

ফেনী পৌর মৎস্য আড়তে মোবাইল কোর্টের অভিযান: বিষাক্ত জেলিযুক্ত ১০৫ কেজি চিংড়ি বিনষ্ট, তিন প্রতিষ্ঠানকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা


সংযুক্ত ছবি

এখানে ছবি দেয়া আছে | ছবি: সংগ্রহীত

ফেনী পৌর মৎস্য আড়তে অভিযান চালিয়ে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর জেলি পুশ করা ১০৫ কেজি গলদা ও বাগদা চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে। একই সাথে অসাধু উপায়ে জেলি পুশ করার অপরাধে তিনটি মৎস্য আড়তকে মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ৬:০০ টায় উপজেলা প্রশাসন, ফেনী সদর ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ফেনী সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা আক্তার। অভিযান সূত্রে জানা যায়, 'মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০' বাস্তবায়নে ফেনী পৌর মৎস্য আড়তে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। পরিদর্শনকালে আড়তের তিনটি প্রতিষ্ঠানে অসাধু উপায়ে ওজন বৃদ্ধি ও কৃত্রিমভাবে গ্রেড পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে চিংড়িতে অপদ্রব্য হিসেবে ক্ষতিকর জেলি পুশ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। অভিযানে উদ্ধারকৃত জেলিযুক্ত চিংড়ির মধ্যে বেলাল ফিশিং ৫৬ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ এবং ৫০,০০০ টাকা জরিমানা। আল্লাহর দান ফিশিং ২৪ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ এবং ২০,০০০ টাকা জরিমানা। এরফান ফিশিং ২৫ কেজি জেলি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ এবং ২০,০০০ টাকা জরিমানা। মৎস্য ও মৎস্যপণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০'-এর ৩১ নম্বর ধারা ভঙ্গ করায় মৎস্য আড়তের মালিকদেরকে মোট ৯০,০০০ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দকৃত মোট ১০৫ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জনসম্মুখে ধ্বংস করে মাটির নিচে পুঁতে ফেলা হয়। অভিযান চলাকালে অন্যান্য মৎস্য ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ক্রেতাদেরকে জেলিযুক্ত চিংড়ি বিক্রির মাধ্যমে ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে কৃত্রিম উপায়ে ওজন বাড়িয়ে গ্রেড পরিবর্তনের অসদুপায় অবলম্বন না করা এবং এ ধরনের কেমিক্যালমিশ্রিত চিংড়ি সেবনের ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সর্বসাধারণকে সচেতন করা হয়। অভিযানের সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব), ফেনী সদর মোঃ মিরাজুল ইসলাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, পরশুরাম সৈয়দ মোস্তফা জামান, জেলা মৎস্য দপ্তর ফেনীর প্রতিনিধি, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যবৃন্দ, মৎস্য আড়ত সমিতির সদস্য ও স্থানীয় জনতা। জনস্বার্থ ও ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানানো হয়েছে।