প্রকাশ :: ... | ... | ...

নিজকুঞ্জরা উচ্চ বিদ্যালয় ও কেজি আদর্শ বিদ্যালয়কে ঘিরে আলোচনা


সংযুক্ত ছবি

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা ও মতবিরোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার একাংশের সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা। তাদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনোই ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র হতে পারে না; বরং এটি হওয়া উচিত শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও ভবিষ্যৎ গড়ার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এ বিষয়ে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নবনির্বাচিত সভাপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ইউনাইটেড ট্রাস্ট, নিজকুঞ্জরা, ছাগলনাইয়া, ফেনী দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের দাবি, ট্রাস্টের অনুদানে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ, ভবন নির্মাণ, আসবাবপত্র সরবরাহসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে ব্যবহৃত অনেক ভবন, কক্ষ ও আসবাবপত্রও ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত ও সরবরাহ করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন। অভিযোগকারীদের দাবি, এত অবদানের পরও কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ইউনাইটেড ট্রাস্ট পরিচালিত কেজি আদর্শ বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন। তাদের মতে, শিক্ষার মান, ফলাফল ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতার দিক থেকে কেজি আদর্শ বিদ্যালয় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং তা অন্য অনেক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, কেজি আদর্শ বিদ্যালয় ধাপে ধাপে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির কার্যক্রম অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এরপরও প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে বিরোধ ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারীদের আরও দাবি, এখনও কিছু ব্যক্তি নিজেদের সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তাদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে সোহেল চৌধুরার অনুসারী হিসেবে পরিচিত কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির ছত্রছায়ায় একটি গোষ্ঠী আগের মতোই প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কেবল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে হয় না; প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষার মান, দক্ষ শিক্ষক, সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরাই। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিবর্তে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সচেতন মহলের মতে, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন কখনোই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান এবং সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগই পারে নিজকুঞ্জরার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ ও আধুনিক করে তুলতে।