প্রকাশ :: ... | ... | ...

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটে বিশেষ বৈঠক শেষে নতুন উদ্যোগের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী


সংযুক্ত ছবি

| ছবি: সংগ্রহীত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় দেশের পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ এবং জ্বালানি সচিব মো. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এলপিজি আমদানি ও দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভরতা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি নতুন গ্যাসকূপ খনন, অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধান এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে সংকট পর্যায়ক্রমে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে আরও বেশি বিদ্যুৎ যুক্ত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সরকারি অফিসে এসির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বাতি বন্ধ রাখার নির্দেশনা যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না, বৈঠকে তা-ও পর্যালোচনা করা হয়। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের কারণে আমদানিতে চাপ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও দ্রুত কমছে। এ অবস্থায় নিজস্ব উৎস থেকে কয়লা উৎপাদনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয়দের সম্মতি পাওয়া গেলে ফুলবাড়ীতে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হবে। বড়পুকুরিয়ায় নতুন করে ৩০০ একর এলাকায় উত্তোলন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জয়পুরহাটের জামালগঞ্জেও কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফুলবাড়ী থেকে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের আয়-রোজগার, বসতি ও পরিবেশের বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে। এদিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক দরপত্রে এ পর্যন্ত ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ও তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। পেট্রোবাংলার আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার শেষ হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক ২৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস পাওয়া গেছে। বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দ্রুত রুফটপ সোলার স্থাপন বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর একটি উপায় হতে পারে। এর অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, জাতীয় সংসদ ভবন, সরকারি স্থানীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও হাটবাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বড় শিল্পকারখানাতেও সৌর প্যানেল স্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি গ্রাহকের বাড়ির সৌর প্যানেলে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের চারটি দেশের সঙ্গে আটটি এলএনজি আমদানি চুক্তি রয়েছে। চলতি বছর ১০৩টি এলএনজি কার্গো আসার কথা থাকলেও প্রথম নয় মাসে এসেছে ২১টি। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে অধিকাংশ কার্গো না আসায় স্পট মার্কেট থেকে তুলনামূলক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হয়েছে।