প্রকাশ :: ... | ... | ...

ওমানে অসুস্থ স্ত্রীকে হাসপাতালে ফেলে দেশে পালাল স্বামী


সংযুক্ত ছবি

‘আমার মেয়েটা ওমানের হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমি অন্ধ মানুষ, শেষবারের মতো মেয়েটাকে ছুঁয়ে দেখতে চাই। ওকে দেশে এনে দিন।’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে আকুতি জানাচ্ছিলেন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাইটকামারী গ্রামের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী জয়নব খাতুন। তাঁর মেয়ে সুমি আক্তার বর্তমানে ওমানের সোহার এলাকার একটি সরকারি হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রায় পাঁচ মাস ধরে হাসপাতালে পড়ে আছেন সুমি, এখন তিনি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। অথচ তাঁকে সেই অবস্থায় ফেলেই দেশে ফিরে এসেছেন স্বামী মো. বাবু রায়হান। সুমির দিনমজুর বাবা সাইদুর রহমান জানান, সুখের আশায় মাত্র ১২ বছর বয়সে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন পাশের দক্ষিণ টাপুর চর গ্রামের বাবু রায়হানের সঙ্গে। বিয়ের পর বাবু প্রবাসে চলে গেলে শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হতেন সুমি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে পাঁচ বছর বাবার বাড়িতেই থাকেন তিনি। পরে স্বামীর আশ্বাসে প্রায় এক বছর চার মাস আগে ওমানে পাড়ি জমান। কিন্তু সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর বাবু নেশাগ্রস্ত হয়ে সুমির ওপর নির্মম নির্যাতন শুরু করেন। পরিবারের কাছে পাঠানো দুটি ভয়েস বার্তায় সুমি নিজেও স্বামীর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন এবং পতিতালয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের সময় সুমি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এবং মারধরের কারণেই তাঁর গর্ভের সন্তান মারা যায়। এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। বর্তমানে ওমানের হাসপাতালে সুমির চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও তাঁর দরিদ্র পরিবারের কাছে নেই। সেখানে কর্মরত এক বাংলাদেশি নারীর সহায়তায় মাঝেমধ্যে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখেন তাঁরা। সাইদুরের অভিযোগ, প্রবাসীদের দেওয়া সুমির চিকিৎসার সহায়তার টাকাও আত্মসাৎ করে দেশে পাঠিয়েছেন বাবু। তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত স্বামী বাবু রায়হান। তাঁর দাবি, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অতিরিক্ত বমির কারণে সুমি ওষুধ খেতে পারতেন না বলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে দেশে আসার বিষয়ে তাঁর সাফাই, ‘ওইটা তো বাংলাদেশ না যে চাইলেই থাকতে পারব, তাই চলে আসছি।’